উল্লেখযোগ্য সাহিত্যিক ও সাহিত্যকর্ম।

 

উল্লেখযোগ্য সাহিত্যিক ও সাহিত্যকর্ম

রামমোহন রায় (১৭৭২-১৮৩৩)

রামমোহন রায় রচিত ‘গৌড়ীয় ব্যাকরণ’ বাঙালির লেখা প্রথম বাংলা ব্যাকরণ । রামমোহন রায়ের উল্লেখযোগ্য রচনা বেদান্ত গ্রন্থ (১৮১৫); বেদান্তসার (১৮১৫); ভট্টাচার্যের সহিত বিচার (১৮১৭) ইত্যাদি।

ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত (১৮১২-১৮৫৯) ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তকে বাংলা সাহিত্যের যুগ

সন্ধিক্ষণের কবি বলা হয়। বাংলা সাহিত্যে ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত প্রথম পরিবেশ সচেতন কবি।

গুপ্তকে ‘খাঁটি বাঙালি কবি’ বলে অভিহিত করেছেন ।

থেকে যে উপাধি পান— ‘বিদ্যাসাগর’। বিদ্যাসাগর রচিত ব্যাকরণগ্রন্থের বিখ্যাত হয়ে আছেন। প্রথমে

ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত তার বিখ্যাত পত্রিকা ‘সংবাদ প্রভাকর’ (১৮৩১)-এর জন্য

পত্রিকাটি ছিল সাপ্তাহিক কবিতা : নীলকর, আনারস, তপসে

মাছ, বাঙালি মেয়ে ইত্যাদি। ‘বর্ণপরিচয়’। মাইকেল মধুসূদন দত্ত (১৮২৪-১৮৭৩)

মধুসূদন খ্রিস্টধর্মে ধর্মান্তরিত হন– ৯ ফেব্রুয়ারি ১৮৪৩;

১৯ বছর বয়সে।

বাংলা সাহিত্যের প্রথম বিদ্রোহী কবি ও বাংলা কাব্য সাহিত্যে আধুনিকতার জনক – মধুসূদন দত্ত।

মধুসূদন দত্ত রচিত দুটি প্রহসন— ‘একেই কি বলে

সভ্যতা’ (১৮৫৯) এবং ‘বুড়ো সালিকের ঘাড়ে রোঁ’। ইংরেজি ভাষায় লিখিত মাইকেল মধুসূদন দত্তের দুটি কাব্যগ্রন্থ ‘ক্যাপটিভ লেডি’ (১৮৪৯) ও ‘ভিশনস অব দি পাস্ট’। কবি মধুসূদন বাংলা কবিতার ভুবনে আসেন ১৮৫৯ অব্দে ‘তিলোত্তমাসম্ভব

কাব্য’ (১৮৬০)-এর মাধ্যমে। মধুসূদন অমিত্রাক্ষর ছন্দের সর্বপ্রথম প্রয়োগ ঘটান ‘পদ্মাবতী’ নাটকে। তবে সফল প্রয়োগ ঘটান ‘তিলোত্তমাসম্ভব’ কাব্যে।

মধুসূদন লিখেছেন ‘ব্রজাঙ্গনা’ (১৮৬১), ‘বীরাঙ্গনা’ (১৮৬২) এবং ‘চতুর্দশপদী

কবিতাবলী’ (১৮৬৬)। /২১তম বিসিএস)

মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত বাংলা কবিতার অন্যতম প্রধান কাব্য ‘মেঘনাদবধ | কাব্য’; যা প্রকাশিত হয় ১৮৬১ খ্রিস্টাব্দে। এ কাব্যে সর্গ সংখ্যা ৯টি। ‘মেঘনাদবধ কাব্য’-এ মধুসূদন পয়ার ছন্দকে প্রচলিত আকৃতি থেকে মুক্তি দিয়ে

করে তোলেন প্রবহমান যাকে বলে ‘অমিত্রাক্ষর ছন্দ।

‘চতুর্দশপদী কবিতা’ নামে বাংলা ভাষায় সর্বপ্রথম সনেট রচনা করেন মাইকেল

মধুসূদন দত্ত। এতে ১০২টি কবিতা সংকলিত হয়েছে। তার ‘বীরাঙ্গনা’ বাংলা সাহিত্যে প্রথম পত্রকাব্য /১২তম বিসিএস)। অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত এ কাব্যে পত্র সংখ্যা ১১টি।

মাইকেল মধুসূদন দত্তের প্রবল দেশপ্রেমের প্রকাশ ঘটেছে- সনেটে। /১৩তম বিসিএস)

প্যারীচাঁদ মিত্র (১৮১৪-১৮৮৩) প্যারীচাঁদ মিত্র কথ্যরীতিতে রচনা করেন

‘আলালের ঘরের দুলাল’ (১৮৫৮)

যাকে বাঙালি রচিত বাংলা সাহিত্যের

প্রথম উপন্যাস বলা হয়।

মতিলাল ও ঠকচাচা ‘আলালের ঘরের দুলাল’ উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র। মদ খাওয়া বড় দায় জাত থাকার কি উপায়, আধ্যাত্মিকা, যৎকিঞ্চিত তার উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ।

ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর (১৮২০-১৮৯১) জন্ম : ২৬ সেপ্টেম্বর ১৮২০, বীরসিংহ গ্রাম,

মেদিনীপুর কলকাতা।

বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় কবি ঈশ্বরচন্দ্র ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের পৈতৃক পদৰিব বন্দ্যোপাধ্যায়। – ১৮৩৯ সালে তিনি সংস্কৃত কলেজ

নাম— ‘ব্যাকরণ কৌমুদী’। ১৮৫৫ সালে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের লেখা যে গ্রন্থ ক্ল্যাসিক মর্যাদা পায়—

– ‘বেতাল পঞ্চবিংশতি’ (১৮৪৭) (হিন্দি বৈতালপচ্চীসীর বঙ্গানুবাদ]। ‘সংস্কৃত ব্যাকরণের উপক্রমণিকা’ (১৮৫১)।

‘ব্যাকরণ কৌমুদী’ (১ম ভাগ- ১৮৫৩, ২য় ভাগ- ১৮৫৩, ৩য় ভাগ ১৮৫৪, ৪র্থ ভাগ- ১৮৬২)।

তৎকালীন নীল চাষীদের চরম দুরবস্থা Rudiments of Knowledge এ নাটকের বিষয়বস্তু। প্রহসন : “বিয়ে পাগলা বুড়ো’ (১৮৬৬),

বোধোদয় (১৮৫১) | চেম্বার্স রচিত

অবলম্বনে রচিত ।। বর্ণপরিচয় (১ম ও ২য় ভাগ- ১৮৫৫)। ‘সধবার একাদশী’ (১৮৬৬), ‘জামাই

কথামালা (১৮৫৬) ঈিশপ-এর গল্পের বারিক’ (১৮৭২)। বঙ্গানুবাদ]। ‘প্রভাবতী সম্ভাষণ’ বাংলা ভাষায় রচিত

প্রথম মৌলিক গদ্যরচনা। [২১তম বিসিএস) শকুন্তলা (১৮৫৪) [কালিদাসের ‘অভিজ্ঞান

শকুন্তলম’ নাটকের বঙ্গানুবাদ]। সীতার বনবাস (১৮৬০) (ভবভূতির উত্তর রামচরিত’ নাটকের প্রথম অঙ্ক ও রামায়ণের উত্তর কাণ্ডের বঙ্গানুবাদ]। ২১তম বিসিএস)

ভ্রান্তিবিলাস (১৮৬৯) শেক্সপিয়রের Comedy of Errors-এর বঙ্গানুবাদ] (২৩তম বিসিএস) বিরাম চিহ্নের ব্যবহার তার হাত দিয়েই শুরু।

অক্ষয়কুমার দত্ত (১৮২০-১৮৮৬) ‘তত্ত্ববোধিনী’ পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন— অক্ষয়কুমার দত্ত। অক্ষয়কুমার দত্ত রচিত পাঠ্যপুস্তকের

মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় হয়েছিল ‘চারুপাঠ’ (তিনখণ্ডে রচিত)। রামনারায়ণ তর্করত্ন (১৮২২-১৮৮৬)

অন্যান্য নাটক : নবীন তপস্বিনী (১৮৬৩), লীলাবতী (১৮৬৭) ও কমলে কামিনী (১৮৭৩)।

– বিয়ে পাগলা বুড়ো’ প্রহসনে বিবাহবাতিকগ্রস্ত এক বৃদ্ধের নকল বিয়ের আয়োজন করে স্কুলের অপরিপক্ক ছেলেরা তাকে নাস্তানাবুদ করে তারই এক কৌতুকরসের কাহিনি বর্ণিত হয়েছে। উল্লেখযোগ্য চরিত্র : নসিরাম, রাজীব, রাজমণি, কেশব, বৈকুণ্ঠ।

বঙ্কিমচন্দ্রের সামাজিক উপন্যাসগুলো হচ্ছে- বিষবৃক্ষ (১৮৭৩), কৃষ্ণকান্তের উইল (১৮৭৮)। বঙ্কিমচন্দ্রের ত্রয়ী উপন্যাস হচ্ছে- আনন্দমঠ (১৮৮২), দেবী চৌধুরাণী (১৮৮৪) ও সীতারাম (১৮৮৭)।

নাটক : ‘কুলীনকুলসর্বস্ব’ (১৮৫৪), বিহারীলাল চক্রবর্তী (১৮৩৫-১৮৯৪)

‘নবনাটক’ (১৮৬৬), ‘রুক্মিণীহরণ’ (১৮৭১), ‘স্বপ্নধন’ (১৮৭৩), ‘কংসবধ’ (১৮৭৫), ‘ধর্মবিজয়’ (১৮৭৫)।

অনূদিত নাটক : ‘বেণী সংহার’ (১৮৫৬), ‘রত্নাবলী’ (১৮৫৮), ‘অভিজ্ঞান শকুন্তলা’- (১৮৬০), ‘মালতীমাধব’ (১৮৬৭)।

বাংলা কবিতার প্রথম রোমান্টিক কবি— বিহারীলাল চক্রবর্তী।

‘উভয় সংকট’ (১৮৬৯), ‘চক্ষুদান’ (১৮৬৯)। কৌলীন্যপ্রথার দোষ-ত্রুটি অবলম্বনে। ‘কুলীনকুলসর্বস্ব’ নাটকটি রচনা করেন।

দীনবন্ধু মিত্র (১৮৩০-১৮৭৩) নাটক : নীলদর্পণ (১৮৬০)

‘নীলদর্পণ’ নাটকটি ঢাকা থেকে প্রকাশিত প্রথম গ্রন্থ। এ গ্রন্থের কাহিনি মেহেরপুর অঞ্চলের। এ নাটকের অভিনয় দেখে মঞ্চে জুতা ছুড়ে মেরেছিলেন- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর।

– নবীনমাধব এ নাটকের প্রধান চরিত্র। এ নাটকের অন্যান্য চরিত্র- গোলকবসু, রাইচরণ, তোরাপ, সাবিত্রী, ক্ষেত্রমণি ইত্যাদি। Uncle Toms Cabin-এর আদলে ‘নীলদর্পণ’ রচিত হয়।

ইংরেজ নীলকরদের অত্যাচারে

১৮৬৫ সালের মার্চ মাসে প্রকাশিত হয় বঙ্কিমচন্দ্রের প্রথম বাংলা উপন্যাস ‘দুর্গেশনন্দিনী’, যা বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক উপন্যাস।

‘কপালকুণ্ডলা’ উপন্যাসের দুটি বিখ্যাত উক্তি ‘পথিক তুমি পথ হারাইয়াছ।’ এবং তুমি অধম তাই বলিয়া আমি উত্তম হইব না কেন??

বঙ্কিমচন্দ্রের মনস্তত্ত্ব বিশ্লেষণমূলক উপন্যাস হলো— ‘রজনী’ (১৮৭৭)। বঙ্কিমচন্দ্রের খাঁটি ঐতিহাসিক উপন্যাস

রাজসিংহ (১৮৮২)। বঙ্কিমচন্দ্র রচিত উল্লেখযোগ্য প্রবন্ধ

হলো— লোকরহস্য (১৮৭৪), কমলাকান্তের দপ্তর (১৮৭৫), বিবিধ সমালোচনা (১৮৭৬), সাম্য (১৮৭৯), কৃষ্ণচরিত্র (১৮৮৬)।

‘সধবার একাদশী’ প্রহসনধর্মী নাটকে তৎকালীন কলকাতার উচ্চশিক্ষিত এবং অর্ধশিক্ষত যুবসম্প্রদায়ের পানাসক্তি, প্রত্যাহার করে নেন। লাম্পট্য, পরস্ত্রীহরণ ইত্যাদি চরিত্রভ্রষ্টতার কাহিনি বর্ণিত হয়েছে। ‘নিমচাঁদ’ এ প্রহসনের মূল চরিত্র।

– বঙ্কিমচন্দ্র তার ‘সাম্য’ গ্রন্থটি বাজার থেকে

– বঙ্কিমচন্দ্র রচিত কাব্যগ্রন্থ— ‘ললিতা’ ও ‘মানস’ (১৮৫৩)।

– বঙ্কিমচন্দ্রের অন্যতম কীর্তি ‘বঙ্গদর্শন’ (১৮৭২) পত্রিকা।

হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় (১৮৩৮-১৯০৩)। – কাব্য : চিন্তাতরঙ্গিনী (১৮৬১), বৃত্রসংহার (১ম খণ্ড ১৮৭৫, ২য় খণ্ড ১৮৭৭)।

দুই খণ্ডে রচিত মহাকাব্যজাতীয় রচনা ‘বৃত্রসংহার’ তাকে এনে দিয়েছে সমধিক খ্যাতি। হিন্দু জাতীয়তাবোধ প্রকাশের লক্ষ্যে হিন্দু পৌরাণিক কাহিনি অবলম্বনে। তিনি ‘বৃত্রসংহার’ কাব্য রচনা করেন।

বিহারীলালকে রবীন্দ্রনাথ বলেছেন— বাংলা কাব্যের ‘ভোরের পাখি’।

গীতিকবিতার স্রষ্টা বিহারীলাল রবীন্দ্রনাথের শুরু হিসেবে খ্যাত।

প্রহসন : ‘যেমন কর্ম তেমন ফল’ (১৮৬৫), বিহারীলাল চক্রবর্তীর শ্রেষ্ঠ কাব্যের নাম- ‘সারদামঙ্গল’ (১৮৭৯)।

বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৮৩৮-১৮৯৪) – বাংলা সাহিত্যে প্রথম সার্থক ঔপন্যাসিক বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়।

কালীপ্রসন্ন সিংহ (১৮৪০-১৮৭০) | ‘হুতোমী’ কাব্য ধারার লেখক হিসেবে | অধিক পরিচিত।

– ‘হুতোম প্যাঁচার নকশা’ (১৮৬২) ও সংস্কৃত মহাভারতের গদ্য অনুবাদ তার অবিনশ্বর সৃষ্টি।

দীনবন্ধু মিত্র ১৮৭১ সালে ভারত সরকার কর্তৃক লাভ করেন- রায় বাহাদুর উপাধি ।

বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় প্রথম লিখেছিলেন একটি ইংরেজি উপন্যাস, নাম অন্যান্য গ্রন্থ: বাবু (প্রহসন, ১৮৫৪), ‘Rajmohan’s Wife’ |

বঙ্কিমচন্দ্র রচিত দ্বিতীয় উপন্যাসের নাম ‘কপালকুণ্ডলা’ (১৮৬৬)।

বিক্রমোর্বশী (অনুবাদ নাটক, ১৮৫৭), সাবিত্রী সত্যবান (নাটক, ১৮৫৮), মালতীমাধব (অনুবাদ নাটক, ১৮৫৯)।

Similar Posts