পদ্মা নাট বল্টু খোলা পক্ষে বিপক্ষে মতামত এর সমাধান।

#Slip_Critical_Joint – স্লিপ ক্রিটিক্যাল জয়েন্টঃ
এটি একটি ইঞ্জিনিয়ারিং থিওরি। যেটি বিয়ারিং বা স্প্রিং এর ন্যায় কাজ করে। পদ্মাসেতুর রেলিং এর নাট কেনো লুজ? কেনো টাইট দেওয়া হয়নি? এই দুটি প্রশ্ন হাজারো বাঙালির মনে। এখানেই আসে স্লিপ ক্রিটিক্যাল জয়েন্ট নামক ম্যাথোড।
চলুন বিষয়টি একটু সহজভাবে জানার চেষ্টা করি-
পদ্মাসেতুর স্প্যান দাড়িয়ে আছে পানি-মাটির উপর, আর চলাচলের উপযোগী সেতু দাঁড়িয়ে আছে ওই স্প্যানের উপর। আর সেতুতে রাস্তার দুই ধারে/পাশে একটির সাথে অপরটি সংযুক্ত করে তৈরি করা হয়েছে নিরাপত্তা দেওয়াল/পিলার। আর এই দেওয়াল এর খন্ডগুলো সংযুক্ত করা হয়েছে রেলিং দিয়ে। আর এই রেলিং গুলো ওই দেওয়ালের খন্ড গুলোর সাথে বড় বড় নাট এর মাধ্যমে যুক্ত থাকে। কিন্তু এই নাট গুলো হালকা লুজ করেই লাগানো হয়। কারণ?

কারণ যদি পদ্মা নদীর ভূপৃষ্ঠের নিচে রিখটার স্কেলে অতিমাত্রায় ভূমিকম্প হয় তবে পদ্মাসেতুও কম্পিত হবে। আর পদ্মা সেতু কম্পিত হওয়া অর্থ তার প্রতিটি স্প্যান, খন্ডায়িত রাস্তা, খন্ডায়িত নিরাপত্তা দেওয়াল সব কম্পিত হবে। সাথে সাথে রেলিং ও কম্পিত হতে চাইবে। এখন রেলিং যদি টাইট করে সেতুর নিরাপত্তা দেওয়াল এর সাথে লাগানো থাকে তাহলে স্প্যান, নিরাপত্তা দেওয়াল কম্পনে নড়লেও রেলিং নড়তে পারবে না, ফলে হয় সেই ভূমিকম্পে রেলিং গুলো বেকে যাবে, না হয় ভেঙ্গে যাবে।
সংযুক্ত ওই নাট হালকা লুজ রাখার ফলে, সেতুর উপরের প্রতিটি খন্ডায়িত অংশ ভূমিকম্পে যেমন হালকা নড়তে পারবে তেমনি নাট কম টাইট থাকায় রেলিং এর উপরও সামগ্রিক ভাবে কম চাপ পড়বে বা কম কম্পন টান অনুভূত হবে। ফলে রেলিং এর কোন ক্ষয়ক্ষতি হবে না। হালকা লুজ রাখা নাট তখন অনেকটাই স্প্রিং এর মতো কাজ করবে। এবং সেতুকে রক্ষা করবে।

আর এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা এড়াতেই রেলিং এর নাট টাইট না দিয়ে হালকা লুজ রাখা হয়। তাই পদ্মা সেতুর এটি ইঞ্জিনিয়ারিং কোনো গাফিলতি বা ভুল নয়। গুজব ছড়ানো বন্ধ করুন।

তবে এটি অত্যন্ত লজ্জাজনক যে, আমরা জাতি হিসেবে এখনো সভ্য হতে পারিনি। পদ্মাসেতু আমাদের গৌরব হলেও সঠিক বিজ্ঞান না জেনে প্রথম দিনেই আমরা সেতুর নাট খুলে বড় ইঞ্জিনিয়ারিং প্রকাশ করতে গিয়েছি। বিজ্ঞান না জেনে এগুলো করা বড় বোকামি।
আশা করি, সবাই বুঝতে পেরেছেন।

টিকটকার বায়েজিদের পরিণতি-

উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে পদ্মা সেতুর নাট-বল্টু খুলে টিকটক করা বায়েজিদ কে আটক করেছে সিআইডি। তার বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইনের ১৫(৩) ধারায় মামলা নেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে পদ্মার উত্তর পাড় থানাকে।

কি আছে- ১৫ এর ৩ ধারায়:

অন্তর্ঘাতমূলক কাজ যেমন রেলপথ, ঝুলন্ত রজ্জু পথ, রাস্তা, খাল, সেতু-কালভার্ট, বাঁধ-সেতু, বন্দর, ডকইয়ার্ড, বাতিঘর, বিমান ঘাঁটি, টেলিগ্রাফ লাইন বা খুঁটি বা টেলিভিশন বা বেতার প্রতিষ্ঠানের সম্পদের কার্যক্ষমতা ব্যাহত করা অথবা সম্পদগুলির ক্ষতি করার উদ্দেশ্যে কোন ব্যক্তি অনৈতিক কাজ করতে পারবে না- যদি করেন তাহলে তার বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইন-১৯৭৪ এর ১৫(৩) ধারায় অভিযুক্ত করা হবে।

এ অপরাধের শাস্তি কি-

যদি কোন ব্যক্তি এই ধারার কোন বিধানের লংঘন করে তাহলে মৃত্যুদন্ড, যাবজ্জীবন অথবা চৌদ্দ বছর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদে কারাদন্ড হবে সেইসাথে তাকে অর্থদন্ডেও দন্ডিত করা যাবে।

Similar Posts