কোন প্রকার রিস্কি ছাড়া সেরা তিনটি ব্যবসা!

আসসালামু আলাইকুম!

আজকে আমি যেই বিষয় টা নিয়ে আলোচনা করবো সেটা হচ্ছে কোন রিস্কি ছাড়াই কিভাবে কোন ব্যবসা করবেন। তো অনেকেই ব্যবসা করতে চান কিন্তু সাহস পাচ্ছেন না, টাকা ব্যাংকে রেখে দিচ্ছেন ব্যাংক থেকে লাভ নিয়ে নিয়ে চলছেন! কারণ ব্যবসায় প্রচুর রিস্ক। যেকোন সময় ধরা খেয়ে যেতে পারেন। এই রকম নানান ভাবনা আপনার মাথায় ঘুরছে। কিন্তু বন্ধুরা আজকে এই রকম তিনটি বিজনেস আইডিয়া নিয়ে কথা বলবো। ইনশাল্লাহ আল্লাহর রহমতে আইডিয়া গুলা কাজ করবে। এই আইডিয়া গুলা যদি আপনি কাজে লাগাতে পারেন অবশ্যই সফলতা পাবেন ইনশাল্লাহ! এই তিনটি ব্যাবসার মধ্যে আপনি যে কোন একটি চোছ করবেন। তবে একটা কথা মাথায় রাখতে হবে ব্যবসা করতে হলে লাগে সাহস লাগে বুকের পাটা। ব্যবসা করবেন অবশ্যই আপনাকে সাহসি হতে হবে।

তো বন্ধুরা রিস্কি ব্যবসা নিয়ে আমি প্রথমে যেই বিষয়টা বলবো সেটা হচ্ছে। বেশ কিছু দিন ধরে আমি শহরে হোক বা গ্রামে হোক খুব চমক দিয়ে উঠেছে সেটা হলো:

১. ঠিকাদারি ব্যবসা।

তো এই ব্যবসা নিয়ে যদি বলি অনেকেই হয়তো হাসবেন বলবেন ঠিকাদারি মানে কন্ট্রাক্টরি। এটা কিন্তু অন্য কারো কাজ না। সেটা হলো প্রাইভেট কোন কাজ। যেমন: শহরে হোক বা গ্রামে দেখেন ইদানিং যদি গ্রামে যাওয়া হয় খেয়াল করবেন প্রতিটা বাড়ি বাড়ি বিল্ডিং। প্রতিটা ব্যাক্তি খুজে একদম টেনশন ফ্রি একটা বাড়ি করতে। আপনি শুধু মাত্র যে কাজটি করবেন, কয়েকটা ভালো রাজমিস্ত্রি যারা ভালো কাজ করে। তাদের ঠিকানা রাখবেন এবং তাদের সাথে সু-সম্পর্ক গড়ে তুলবেন। এই জন্যই যে আপনি যখন বিজনেস টা করতেই চাচ্ছেন। দেখেন রাজমিস্ত্রি তার কিন্তু আইডিয়া থাকে একটা বাড়িতে করতে কি পরিমান খরচ হতে পারে। পারলে তাদের সাথে সম্পর্কটা একটু ভালো রাখবেন। আর আপনি আপনার বাজারে বা যেখানে অনেক লোক একসাথে বসে আড্ডা মারে সেখানে একটা ছোট অফিস নিবেন। সেখানে লিখে দিবেন সকল প্রকার কাজের/ বিল্ডিং এর কন্টাক্ট নেওয়া হয়। অথবা সকল প্রকার আজমিস্ত্রি সাপ্লাই দেওয়া হয়। বিল্ডিং রিলেটেড যত প্রকার কাজ আছে সকল কিছু করে দেওয়া হয়। যেমন:- সেনেটারি মিস্ত্রি, টাইলস মিস্ত্রি, রাজমিস্ত্রি এই তিন ধরনেই মিস্ত্রি আপনার হাতের কাছে থাকতে হবে।

Read more:  400 টি ছোট বড় ব্যবসা আইডিয়া

আরো পড়ুনঃ

প্রথমে আপনার কাছে একটু কঠিন মনে হবে কিছুই করার নেই। একজন ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার/ সিভিল ইঞ্জিনিয়ার তার সাথে কন্টাক রাখবেন। কারন তার সাথে সম্পর্ক রেখে বাই ফোনে অথবা স্বশরিলে সপ্তাহে এক অথবা দুই দিন তার কাছে সময় নিবেন। যখনই কোন বিল্ডিং এর কন্টাক্ট হবে আপনি তাকে নিয়ে উপস্থিত করাবেন এবং কন্টাক্টটা আপনি নিবেন। মিস্ত্রিকে আপনি টাকা দিবেন A-Z পর্যন্ত সকল খরচ আপনি নিজে বহন করবেন। যে বিল্ডিং বানাবে ওনি আপনার সাথে কন্টাক্ট করবে আর আপনি আপনার তথ্য গুলো আপনার মধ্যে রাখার চেষ্টা করবেন। রাজমিস্ত্রি, ইঞ্জিনিয়ারের সাথে এসব শেয়ার করা যাবে না। যেমন:- একটা বাড়ি বানাতে ইট, সিমেন্ট এটা বাড়িওয়ালাই দিবে আপনি শুধু বাড়ি বানিয়ে দিবেন। আপনাকে চিন্তা করতে হবে যে ১ লক্ষ টাকা যদি হয় ঐখান থেকে আপনাকে সেভ করতে হবে মিনিমাম ৩০ হাজার টাকা। মানে ৭০ হাজার টাকার মধ্যে কাজ টি আপনাকে সম্পন্ন করতে হবে। একসাথে আপনি পাঁচটি কাজ ধরলে কোন প্রকার ইনভেষ্ট ছাড়াই প্রতিটা কাজ থেকে যদি ৩০ হাজার টাকা করে লাভ হয় তাহলে পাঁচ টা কাজে আপনি পাচ্ছেন ১ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা without invest শুধু মাত্র আপনার ব্রেন খাটিয়েই। তো বন্ধুরা আপনারা যদি একটু ব্রেন খাটাতে পারেন ১০০% আপনি পারবেন ঠিকাধারি ব্যবসা।

২. রেস্টুরেন্টের ব্যবসা।

আপনার পুঁজি একদম কম আপনি হাইফাই করে না ছোট্ট একটা রেস্টুরেন্ট শুধু ভাত, রুটি, পরাটা, সিঙ্গারা, ছামচা আর হালকা কিছু মিষ্টি দেনেরটা দিনেই শেষ হবে এইরকম একটা এমায়োন্টে খরচ করবেন। যেমন: আপনি ১৫ হাজার টাকার পন্য তুললেন এবং বিক্রি হবে ২০-২৫ হাজার টাকা। এখানে কর্মচারী খরচ ২ হাজার টাকা দিলেন তো দেখেন এখানে আপনার কত টাকা লাভ থাকছে ৮ হাজার টাকা। তো আপনার প্রতিদিন যদি ৮ হাজার টাকা থাকে তাহলে মাসে কত দাঁড়াচ্ছে ২ লক্ষ ৪০ হাজার টাকা। তাহলে আপনি নিজেকেই প্রশ্ন করে দেখেন ১৫ হাজার টাকায় কি লস খেলেন? এখানে কোন লস নাই তো কোন রিক্স নাই। রেস্টুরেন্ট ব্যবসায় কখনো লস হয় না। লস তখনই হয় যখন আপনি দেখছেন আপনার কাস্টমার ৫০ জন আর আপনি খাবারের আয়োজন করছেন ১০০ জনের তখন তো আপনার লস হবেই। আপনি রিক্সে যাবেন কেন? লাভ কম হোক! আপনার যদি খাবারের মান ভালো থাকে অবশ্যই আপনার রেস্টুরেন্টে কাস্টমার ভিড় করবেই। সব সময় রিস্ক ফ্রি থাকবেন আপনি বেশি আশা করবেন না। যত টুকু পাবেন তাই নিয়েই সন্তুষ্ট থাকবেন। যখনই বেশি প্রত্যাশা করতে যাবেন ভাব নিতে যাবেন তখনই ধরাটা খেয়ে যাবেন। আগে আপনাকে ব্যবসাটা শিখতে হবে। দেখতে হবে কাস্টমারের চাহিদা কি। তাদের চাহিদা যায়ি আপনাকে অনুযায়ী ব্যয় করতে হবে। আপনাকে আগে যেটা মাথায় রাখতে হবে সেটা হচ্ছে ভালো সার্ভিস ভালো খাবার তাহলেই না আপনার রেস্টুরেন্টের নাম হবে। তো যেটাই করেন না কেন আগে আপনাকে অভিজ্ঞতা অর্জন করতে হবে। অভিজ্ঞতা ছাড়া আপনি কখনো ব্যাবসা করতে যাবেন না। তো অভিজ্ঞতা নিতে হবে ৬-৭ মাস তবে দুই বছর হলে সব থেকে ভালো হয়।

৩. ফার্ণিচার ব্যবসা।

আমরা অনেকেই বুঝি না অনেকেই জানি না ফার্ণিচার ব্যবসা আবার কি? দেখেন ভাই যে ব্যবসায় কোন লস নাই, রিস্ক নাই, টেনশন নাই, ইনভেষ্টমেন্ট নাই বললেই চলে। কারন আপনি প্রাথমিক ভাবে কিছু ফার্নিচার প্রচারের জন্য আপনার শো-রুমে থাকবে। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সাথে কন্টাক রাখবেন। ওডার নিবেন ডিজাইন টা দেখাবেন এবং যার কাছ থেকে ওডার নিবেন কিছু এডভান্স নিয়ে নিবেন আর আপনার কাজ হচ্ছে যারা ফার্নিচার বানায় তাদের কে বলবেন এই ডিজাইনে আমার এতো পিচ ফার্নিচার লাগবে। এরপর বানানো হয়ে গেলে আপনি এনে ওনার বাসায় পৌছে দিবেন। এখানে মাঝ খানে থেকে আপনি ভালো একটা প্রফিট পেলেন। আপনার দোকান/ শো-রুমে ২০-৩০ পিচ মাল আপনি রেখে দিলেন এতে সব মিলিয়ে আপনার ১ লক্ষ থেকে ১ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা যেতে পারে। আপনি তো প্রতি নিয়ত বিক্রি করছেন সেটা শহরেই হোক বা গ্রামে তবে সেটা আপনাকে বুঝে শুনে করতে হবে। তো আমরা যদি ফার্নিচারের ব্যবসা করি আমাদের কিন্তু অবশ্যই অভিজ্ঞতা থাকতেই হবে। আপনি যেই ব্যবসাই করেন না কেন আপনাকে অভিজ্ঞতা থাকতেই হবে। তো আপনি চাইলে একটা কাজ করতে পারেন। আপনার আশেপাশে বা পরিচিত যারা এই ফার্নিচারের ব্যবসা করছে, আপনি তাদের থেকে পরামর্শ নিতে পারেন। যেমন:- কোথা থেকে সে ফার্নিচার গুলো সংগ্রহ করে। যারা এসব সাপ্লাই করে তাদের সাথে যোগাযোগ করেন। তবে একটা কথা মাথায় রাখতে হবে! যদি আপনি সিদ্ধান্ত নিয়েই ফেলেছেন আমি এই ব্যবসাটি করবো তাহলে কখনো পিছুপা হইয়েন না। কারন আপনি যার কাছে পরামর্শের জন্য যাবেন। সে হয়তো আপনাকে ভালো পরামর্শ নাও দিতে পারে। সে চাইবে না তার নতুন কোন প্রতিধ্বন্ধি হোক। সুতরাং সে আপনাকে পরামর্শ দিবে-
” ভাই কি যে ঝামেলা কি যে টেনশন এই ব্যবসা ভুলেও এই ব্যবসায় আইসেন না ইত্যাদি ইত্যাদি’
কারন সে আপনাকে ডিমটিভেট করতে পারে। তো বন্ধুরা মাথায় রাখতে হবে আপনি সিদ্ধান্ত নিয়েছেন আপনার কাজটি আপনাকেই করতে হবে। প্রতিটা ব্যবসায় আমিও চাইবো না যে আমার ব্যবসায় একজন আসুক। ঠিক সেই ভাবেই আপনাকে এসব পরামর্শ দিতে পারে।

Read more:  কম পুঁজির সেরা ১০ টি লাভজনক ব্যবসা!

তো আমরা যে কাজটি করবো ব্যবসা করতে চাই ব্যবসায় সফলতা আনবো। এই যে তিন টি ব্যবসা
১. ঠিকাদারি
২. রেস্টুরেন্ট
৩. ফার্ণিচার

এই তিনটা রিস্ক ফ্রি ব্যবসা গুলো যদি আমরা মন থেকে করতে পারি আল্লাহর রহমতে আমি গেরান্টি দিয়ে বলতে পারি আপনার প্রফিট অব্যশই হবে ইনশাল্লাহ!

ধন্যবাদ সবাইকে!

About shakib

Hello! I’m Shakib. Known as Mainul Hasen Shakib on social media. I always try to do something new using my acquired experience.

View all posts by shakib →

6 Comments on “কোন প্রকার রিস্কি ছাড়া সেরা তিনটি ব্যবসা!”

  1. Pingback: Bestbusinessidea

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *